ভারতে ফের নতুন এক প্রজাতির সাপের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যা ইতিমধ্যেই বন্যপ্রাণী গবেষণা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। লাউডগা গোত্রভুক্ত এই নতুন প্রজাতির সাপটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘আহেতুল্লা লংগিরোস্ট্রিস’। বিহার এবং মেঘালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে এই সাপের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভারতীয় সর্পবিশারদদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এই সাপটি বিশেষভাবে নজরকাড়া তার আকৃতি ও আচরণের কারণে। ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এই সাপটি, যা তার দেহের সরু ও লতানো গড়নের জন্য লতাপাতা বা ডালপালার সঙ্গে মিশে যেতে সক্ষম। আকারে বিশাল না হলেও, তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এই সাপটি অত্যন্ত দ্রুত বিষ ছুঁড়ে আক্রমণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রজাতির সাপ হামলাকারীর প্রতি বিষ ছুঁড়ে সর্বোচ্চ দূরত্ব পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম, যা অন্যান্য সাপের মধ্যে বিরল।
ভারত, বাংলাদেশ, বিহার, মেঘালয়, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিরল প্রজাতির সাপের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যদিও এই সাপের আদিবাসস্থল ওড়িশা, তবে সাম্প্রতিককালে বিহার এবং মেঘালয়ের বিভিন্ন পার্বত্য অঞ্চল থেকে এই সাপের বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সর্প গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রজাতির সাপের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা জার্নালে এই বিষয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘আহেতুল্লা লংগিরোস্ট্রিস’ সাপটি মূলত তার আশ্রয়স্থলের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে রাখতে সক্ষম, যা তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি দুর্দান্ত কৌশল।
সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এই নতুন প্রজাতির সাপ সম্পর্কে উৎসাহ বাড়ছে, এবং গবেষকরা এই সাপটির আচরণ ও পরিবেশের সঙ্গে তার খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা নিয়ে আরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই নতুন আবিষ্কার ভারতের বন্যপ্রাণী গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।