সকালে ৬টা ৪৫ মিনিটে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা এসে পৌঁছান আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বাড়ির সামনে। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তারা একের পর এক ডাকাডাকি করতে থাকেন, এবং ঘরের বেলটিও বারবার বাজানো হয়। কিন্তু, ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। সন্দীপ ঘোষের বাড়ির চারপাশের এলাকা ধীরে ধীরে সজাগ হতে থাকে, অথচ বাড়ির ভেতর থেকে কারও কোনো উত্তর না মেলায় সিবিআই কর্মকর্তারা আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
এভাবেই সময় গড়িয়ে যায়, এবং অবশেষে, ঠিক সকাল ৮টা ৩ মিনিটে বাড়ির দরজা খুলে বাইরে আসেন সন্দীপ ঘোষ। ততক্ষণে সিবিআইয়ের সাত সদস্যের একটি দল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই তল্লাশি অভিযান আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিন শুধুমাত্র সন্দীপ ঘোষের বাড়ি নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান চালানো হয়। কেষ্টপুরে আরজি কর হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান দেবাশিস সোমের বাড়ি, এন্টালিতে হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার সঞ্জয় বশিষ্ঠের বাড়ি, এবং হাওড়ায় হাসপাতালের সরবরাহকারী বিপ্লব সিং-এর বাড়িতেও সিবিআই দল গিয়ে তল্লাশি করে। বিপ্লব সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিবিআই তদন্তের অংশ হিসেবে এদিন মোট ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালায়।
প্রসঙ্গত, গত ৮ আগস্ট গভীর রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীর ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। সেই অভিযোগগুলির কেন্দ্রে ছিলেন সন্দীপ ঘোষ, যিনি কলেজটিকে দুর্নীতির আঁতুড়ঘরে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মূলহোতা হিসেবে অভিযোগ তোলেন।
এই ঘটনার পর আদালত সিবিআইকে এই দুর্নীতির তদন্তের দায়িত্ব দেয়। যদিও সন্দীপ ঘোষ আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিলেন, তবুও আদালত তার আবেদনে সাড়া দেয়নি। গত কয়েকদিন ধরে সিবিআই কর্মকর্তারা টানা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছেন। শনিবারও সিজিও কমপ্লেক্সে সন্দীপ ঘোষকে দিনভর জেরা করা হয়। এর পরই রবিবার সকালে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা, এবং বাড়ির দরজা খুলতে এত সময় লাগার কারণও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।